Sports Zone
Wednesday, November 30, 2016
Sunday, November 13, 2016
গেইল, আশরাফুলকে ছাড়িয়ে সাব্বিরের রেকর্ড
dST
অপেক্ষার অবসানটা কী দারুণভাবেই না করলেন সাব্বির রহমান। দারুণ সব শটে মুগ্ধতা ছড়িয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পেয়েছেন নিজের প্রথম শতক। এই ইনিংসেই ছাড়িয়ে গেছেন ক্রিস গেইল ও মোহাম্মদ আশরাফুলকে।
রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বরিশাল বুলসের বিপক্ষে ৬১ বলে ১২২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন রাজশাহী কিংসের সাব্বির। বিপিএলে এটাই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। ২০১২ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে বরিশাল বার্নার্সের গেইলের ১১৬ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এখনও তামিম ইকবালের। ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টিতে ইউসিবি-বিসিবি একাদশের বিপক্ষে এই বাহাতি ব্যাটসম্যান করেছিলেন ১৩০ রান। তার পেছনেই আছেন সাব্বির।
৫৩ বলে আসে সাব্বিরের শতক, হয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম তিন অঙ্ক ছোঁয়ার রেকর্ড। ২০১৩ সালে খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের বিপক্ষে ৫৬ বলে শতক করেছিলেন ঢাকা গ্ল্যডিয়েটর্সের আশরাফুল।
সাব্বিরের ঝড়ো ইনিংসটি গড়া ৯টি করে ছক্কা-চারে। হায়দারের বলে শেষ ছক্কাটিতে শামসুর রহমানকে পেছনে ফেলেন তিনি। ২০১৩ সালে সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে অপরাজিত ৯৮ রান করার পথে ৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন রংপুর রাইডার্সের শামসুর। বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের টি-টোয়েন্টিতে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ ছক্কা।
সাব্বির বেশি পরিচিত টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান হিসেবে। সেই সংস্করণে ৮৬তম ম্যাচে এসে নিজের প্রথম শতক পেলেন তিনি।


স্পিনার মনির হোসেনের মাথার ওপর দিয়ে হাঁকিয়েছেন ছক্কা। পেসার আবু হায়দারের বলেও একই ফল। তাইজুল ইসলামকে উড়িয়ে সীমানা পার করেছেন দুই বার।
যার হাতে জীবন পেয়েছেন সেই আল আমিনকে লংঅনের ওপর দিয়ে হাঁকিয়েছেন ছক্কা। সবচেয়ে বড় ছক্কাটা মেরেছেন দিলশান মুনাবিরার বলে।
মনিরকে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ৮৭ রান থেকে ৯৯ রানে পৌঁছে যান সাব্বির। হায়দারের পরের ওভারে দুই রান নিয়ে শতকে পৌঁছান সাব্বির। শতক করার পথে ৬টি চার ও ৮টি ছক্কা হাঁকান এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। বিপিএলের চলতি আসরে এটাই প্রথম শতক।
আল আমিনের বলে ক্যাচে দিয়ে শেষ হয় সাব্বির ঝড়। অসাধারণ এক ইনিংস খেলার পরও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ম্যাচে ৪ রানে হেরেছে রাজশাহী।
Thursday, November 10, 2016
ব্রাজিলের সামনে অসহায় আর্জেন্টিনা
বেলো হরিজন্তেতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিপক্ষে ৩-০ গোলের এই জয়ে প্রথমার্ধে লক্ষ্যভেদ করেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো ও নেইমার। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান পাওলিনিয়ো।
‘সুপার ক্লাসিকো’ ম্যাচের উত্তাপ অবশ্য বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর পৌনে ছয়টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে পাওয়া যায়নি। এ সময় বল দখলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনাই।
২৩তম মেসির পাস থেকে লুকাস বিগলিয়ার জোরালো শট ডানে ঝাঁপিয়ে ঠেকান ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন।
আর্জেন্টিনা প্রথম সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারলে কি হবে, দুই মিনিট পর নিজেদের প্রথম সুযোগেই কৌতিনিয়োর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। নেইমারের পাস পাওয়ার পর আড়াআড়ি দৌড়ে দুই খেলোয়াড়কে এড়িয়ে ডি-বক্সের একটু বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন লিভারপুলের এই তারকা। ওপরের ডান কোণা দিয়ে বল বল জালে জড়ায়। ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো।
৩৭তম মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক দেয়ালে প্রতিহত হয়। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া নেইমার দুরূহ কোণ থেকে শট নিয়েছিলে, বল পোস্টের বাইরে দিকে লাগে।
৪২তম মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল অতিথরা। তবে আনহেল দি মারিয়ার বাড়ানো বলে ডি-বক্সের ভেতর থেকে ডিভেন্ডার এমানুয়েল মাসের নীচু শট দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
বিরতির ঠিক আগে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান নেইমার। গাব্রিয়েল জেসুসের বাড়ানো বল ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিতে ঠিক সময়ে দৌড় দিয়েছিলেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক রোমেরোর পাশ দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে তুলে নেন জাতীয় দলের হয়ে তার ৫০তম গোলটি।
৫৫তম মিনিটে ডিফেন্ডারদের ভুলে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকে কাটিয়ে প্লেসিং শট নিয়েছিলেন পাওলিনিয়ো। গোললাইন থেকে বল বিপদমুক্ত করে সে যাত্রা ব্যবধান বাড়াতে দেননি পাবলো সাবালেতা। পাল্টা আক্রমণে দি-মারিয়ার শট সাইড নেটে জড়ায়।
তবে তিন মিনিট পর ডিফেন্ডারদের বোঝাপড়ার ঘাটতিতে ঠিকই গোল পেয়ে যান পাওলিনিয়ো। মার্সেলোর ক্রসে বিপদমুক্ত করতে পারেননি মাস। রেনাতো আগুস্তোর কাটব্যাকে পাওলিনিয়োর শট ফুনেস মোরির পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
৬৮তম মিনিটে নেইইমার ডি-বক্সে বল পেয়েছিলেন। সাবালেতা কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন।
৭৯তম মিনিটে পাওলিনিয়োর বাড়ানো বলে আবার ডি-বক্সে বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন নেইমার। গোলরক্ষক এগিয়ে এসে বলে কোনোরকমে হাত ছুঁইয়ে কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন।
৮৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে রেনাতোর ক্রসে খুব কাছ থেকেও বদলি হিসেবে নামা ফিরমিনো পা ছোঁয়াতে না পারায় ব্যবধান আর বাড়েনি।
১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল ব্রাজিল। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা আর্জেন্টিনা আছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে না যেতে পারার শঙ্কায়।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে শীর্ষ চার দল সরাসরি খেলব রাশিয়া বিশ্বকাপে। পঞ্চম দলটিকে প্লে-অফ খেলতে হবে ওশিয়ানিয়া অঞ্চলের সেরা দলের সঙ্গে।
Tuesday, November 8, 2016
চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শুরু তামিমের চিটাগংয়ের
চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শুরু তামিমের চিটাগংয়ের
বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিটের লড়াই। ম্যাচের আবহে ছিল উত্তেজনার ফুলকি। মাঠের ক্রিকেটে সেটির প্রতিফলন পড়ল সামান্যই। ম্যাচ হলো এক তরফা। গতবারের তলানির দল চিটাগং ভাইকিংসের সঙ্গে লড়াইটা জমাতেই পারল না বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
এক বার উদ্বোধন করে চার দিন পর আবার নতুন করে শুরু হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর। বিকেল থেকে কালো মেঘে আকাশ ঢাকা থাকলেও কোনো ঝামেলা ছাড়াই হলো পুরো ম্যাচ। মাশরাফি বিন মুর্তজার কুমিল্লাকে ২৯ রানে হারাল তামিম ইকবালের চিটাগং।
টস হেরে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছিল চিটাগং। কুমিল্লা থমকে যায় ৮ উইকেটে ১৩২ রানে।
চিটাগং বড় পুঁজি পেয়েছিল তামিম ও শোয়েব মালিকের দারুণ দুটি ইনিংসে। এবারের বিপিএলের প্রথম অর্ধশতক উপহার দেন তামিম। কার্যকর এক ইনিংস খেলেছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার মালিক। পরে বল হাতে কুমিল্লাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেননি মোহাম্মদ নবি। অফ স্পিনে নিয়েছেন ২২ রানে ৪ উইকেট।
মন্থর উইকেটে ১৬২ রান তাড়া ছিল এমনিতেই কঠিন। নিজেদের কাজটা আরও কঠিন করে তুলেছিল কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা। শুরু থেকেই ধুঁকেছে তারা।
থমকে যাওয়া রানের গতিতে খানিকটা প্রাণ এনেছিলেন মারলন স্যামুয়েলস। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনিও (১৮ বলে ২৩)। ব্যর্থ লিটন দাস, আসহার জাইদিরাও।
গত আসরে এই চিটাগংয়ের বিপক্ষেই পাঁচে নেমে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন মাশরাফি। এবার নেমেছিলেন ছয়ে। কিন্তু করতে পারেননি পুনরাবৃত্তি। পাকিস্তানী ইমাদ ওয়াসিমও পারেননি ব্যাট হাতে দারুণ কিছু করতে।
দুই প্রতিশ্রুতিশীল দুই তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও আল আমিন জুটি গড়তে পেরেছেন; তবে পরিস্থির দাবি মেটাতে পারেননি। শান্ত শেষটা অবশ্য করেছেন দারুণ। ইনিংসের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদকে মেরেছেন চারটি চার। অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ বলে অপরাজিত থাকেন ৫৪ রানে। তবে কুমিল্লার হার নিশ্চিত হয়ে গেছে বেশ আগেই।
এর আগে কুমিল্লার বোলারদের উড়িয়েছেন তামিম। নিজের মনোভাবটা তিনি বুঝিয়ে দেন ম্যাচের শুরুতেই। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বেরিয়ে এসে মাশরাফিকে কাভার দিয়ে উড়িয়ে মারেন চার। মিতব্যয়ী বোলিংয়ের জন্য পরিচিত সোহেল তানভিরকে দুটি চার মারার পর ছক্কা মারেন মাথার ওপর দিয়ে।
আরেক পাশে আক্রমণাত্মক ডোয়াইন স্মিথকে উইকেটে বেধে রাখেন ইমাদ ওয়াসিম ও তানভির। শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলতে গিয়েই ফিরেছেন স্মিথ। ইমাদকে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন লং অনে।
স্মিথ আউট হওয়ার আগে ইমাদের ওই ওভারেই জীবন পান তামিম। ২৩ রানে কাভারে তার ক্যাচ ছাড়েন নাহিদুল ইসলাম। যেটির খেসারত সরাসরিই দিতে হয় টি-টোয়েন্টি অভিষিক্ত এই অলরাউন্ডারকে। নাহিদুলের অফ স্পিনে বেরিয়ে এসে কাভারের ওপর দিয়ে বল ওড়ান তামিম। ওই ওভারেই মারেন আরেকটি চার। ৩২ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করেন চিটাগং অধিনায়ক।
ফেরার সময় এনামুলের ওপর খুব একটা খুশি মনে হয়নি তামিমকে। খানিক পর রান আউট নিয়তি মেনে নিতে হয় এনামুলকেও। ফেরেন স্যামুয়েলসের সরাসরি থ্রোতে (১৮ বলে ২২)।
সেখান থেকেই চিটাগংয়ের হাল ধরেন মালিক, দারুণ সঙ্গ দেন জহুরুল। দুজনের জুটিই দলকে টেনে নিয়ে যায় বাকি পুরো সময়।
১ রানে মাশরাফির বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে জীবন পান জহুরুল। সেটি তিনি কাজে লাগিয়েছেন যথাসাধ্য। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২১ বলে ২৯ করে। ২৮ বলে অপরাজিত ৪২ মালিক।
দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৪১ বলে ৬০। চিটাগং ছাড়িয়েছে ১৬০। শেষ পর্যন্ত যেটির ধারে কাছে যেতে পারেনি কুমিল্লা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৬১/৩ (তামিম ৫৪, স্মিথ ৯, এনামুল ২২, মালিক ৪২*, জহুরুল ২৯*, মাশরাফি ০/৩৪, ইমাদ ১/২২, তানভির ০/২৮, নাহিদুল ০/২৩, জাইদি ০/১৮, শরিফ ০/৩৩)
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১৩২/৮ (লিটন ১৩, ইমরুল ৬, স্যামুয়েলস ২৩, শান্ত ৫৪*, জাইদি ২, মাশরাফি ১, ইমাদ ৪, আল আমিন ১৪, তানভির ০, শরিফ ২*, স্মিথ ১/২২, রাজ্জাক ১/২৩, মিলস ১/২৮, নবি ৪/২২, মালিক ০/৩, তাসকিন ১/৩১)।
ফল: চিটাগং ভাইকিংস ২৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ নবি
Sunday, October 30, 2016
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফররত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ১০৮ রানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে।
শেখ হাসিনা তাঁর অভিনন্দন বার্তায় দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করায় সকল খেলোয়াড়, কোচ, দলের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)’র কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টকে সকলকে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের টিম স্পিরিট ও তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখে গোটা জাতি গর্বিত।’
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনের কারণেই এ ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে বাংলাদেশ বহু প্রতীক্ষিত টেস্ট ও ওয়ানডের মর্যাদা লাভ করে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিজয়ের এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ১০৮ রানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে।
শেখ হাসিনা তাঁর অভিনন্দন বার্তায় দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করায় সকল খেলোয়াড়, কোচ, দলের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)’র কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টকে সকলকে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের টিম স্পিরিট ও তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখে গোটা জাতি গর্বিত।’
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনের কারণেই এ ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে বাংলাদেশ বহু প্রতীক্ষিত টেস্ট ও ওয়ানডের মর্যাদা লাভ করে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিজয়ের এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দাপুটে টেস্ট জয়
চট্টগ্রামে বাগে পেয়েও একটুর জন্য ইংল্যান্ডকে হারানো যায়নি। ছিল ২২ রানে হারের আক্ষেপ। কিন্তু ঢাকায় সুযোগটা মিস করল না বাংলাদেশ। তিন দিনেই শক্তিশালী বৃটিশদের ১০৮ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক এক টেস্ট জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। ১০ টেস্টে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেল টাইগাররা। এই মাপের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টেস্টে আগে জেতেওনি বাংলাদেশ। ৯৫ টেস্টে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অষ্টম জয়। মেহেদী হাসান মিরাজ ইনিংসে ৬ উইকেট ও সাকিব আল হাসান ৪ উইকেট নিয়ে ইংলিশদের দ্বিতীয় ইনিংস ১৬৪ রানে গুঁড়িয়ে দিলেন। সেই সাথে ২ ম্যাচের সিরিজটা ১-১ ড্র করল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৬ রান তুলে রবিবারই ইংল্যান্ডের সামনে ২৭৩ রানের টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশ। পারেনি ইংলিশরা।
এই ম্যাচ কোনো স্বাভাবিক ম্যাচ না। ক্রিকেট বোদ্ধা-বিশ্লেষকদের ভুল প্রমাণ করার টেস্ট। এখানে তিনদিনে পড়ে ৪০ উইকেট। বাংলাদেশের স্পিনাররা নেন ইংল্যান্ডের সবগুলো উইকেট। এই তৃতীয় দিনে ১৭ উইকেটের পতন দেখেছে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৬ রান বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডের ভয় ধরানো ব্যাটিংয়ের পর মেহেদী ও সাকিবের অমর কীর্তি। মেহেদী ৬ উইকেট নিলেন। ম্যাচে তার ১২ উইকেট হলো। সাকিব চার বলে ৩ উইকেট নেন। ইনিংসে ৪ ও ম্যাচে ৫ উইকেট তার। ইংলিশদের কফিনে শেষ পেরেকগুলো তিনিই ঠুকেছেন। কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০০ রান তোলা ইংল্যান্ড ১৬৪ রানেই অল আউট! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা দশম টেস্টে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। নিজেদের ৯৫ টেস্টের ইতিহাসে এটি মাত্র অষ্টম জয়। মেহেদী ৭৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন এই ইনিংসে। ৮২ রানে ছিল ৬ উইকেট প্রথম ইনিংসে। ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সিরিজেরই সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন মোট ১৯ উইকেট নিয়ে।
এ এক আশ্চর্য টেস্ট! এই মিরপুরেই বাংলাদেশের ২০৯ রান তাড়া করে ২০১০ সালে ৯ উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এশিয়ায় ওটাই চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ইংলিশদের। তাদের সামনে তাই রেকর্ড জয় করে জেতার চ্যালেঞ্জই দিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু শঙ্কা তো ছিলই। ইংলিশরা যে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০০ রানে চলে গেল চা বিরতিতে!
কিন্তু চরম নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চের অপেক্ষায় ছিল এই ম্যাচ। বাংলাদেশের টেস্ট মানেই হালে এই অবস্থা। চা বিরতির পর টিনএজার অফ স্পিনার মেহেদী প্রথম বলেই আঘাত হানেন। বেন ডাকেট (৫৬) বিদায় নেন। এরপর আঘাত হানতেই থাকেন তিনি। অভিজ্ঞ সাকিবের ঘুর্ণীতে পরে খড়কুটোর মতো উড়ে যান ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ২২.৩ ওভারে ১০ উইকেট নিয়ে দেশের শেষ বিকেলটাই উৎসবে রাঙিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
Subscribe to:
Posts (Atom)





